🌙 Sabarer Fojilot – ইসলাম ধর্মে ধৈর্য ও সবরের মহিমা
মানুষের জীবনে সুখ–দুঃখ, সফলতা–ব্যর্থতা, লাভ–ক্ষতি—সব কিছুই আল্লাহ্র পক্ষ থেকে পরীক্ষা। আর এই পরীক্ষায় যে উত্তীর্ণ হতে পারে তার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো সবর (ধৈর্য)।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বহুবার বলছেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সবরকারীদের সাথে আছেন।”
(সূরা বাকারা: ১৫৩)
যে মানুষ সবর ধরে রাখে, তার জন্য আল্লাহ্র পক্ষ থেকে থাকে বিশেষ রহমত, অফুরন্ত পুরস্কার এবং শান্তির দরজা।
⭐ সবরের অর্থ কী?
সবর মানে শুধু দুঃখ সহ্য করা নয়।
বরং—
-
নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা
-
গোনাহ থেকে নিজেকে বাঁচানো
-
বিপদে হতাশ না হওয়া
-
আল্লাহর ফয়সালায় রাজি থাকা
-
উন্নতি আসবে—এই বিশ্বাস ধরে রাখা
সবর এমন একটি শক্তি যা মুমিনকে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও স্থির রাখে।
⭐ বিপদের সময় সবর করার পুরস্কার
রসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“বিপদের প্রথম আঘাতে সবর করাই প্রকৃত সবর।”
(বুখারি)
অর্থাৎ, বিপদ আসার সাথে সাথে আমরা যদি রাগ না করি, অভিযোগ না করি, বরং আল্লাহকে স্মরণ করি—এটাই প্রকৃত সবর।
আর যারা সবর করে, তাদের জন্য আল্লাহ কিয়ামতের দিন বিশেষ পুরস্কার রাখবেন—
যে পুরস্কার অন্য কাউকে দেয়া হবে না।
⭐ সবরকারীর দোয়া দ্রুত কবুল হয়
সবর করার সময় আল্লাহ্র কাছে দোয়া করলে তা খুব দ্রুত কবুল হয়। কারণ আল্লাহ্ সেই মুহূর্তে বান্দার খুব কাছে থাকেন। আল্লাহ বলেন—
“আমি কাছেই আছি, ডাকলে সাড়া দেই।”
(সূরা বাকারা: ১৮৬)
তাই দুঃখের সময় হতাশ না হয়ে বলুন:
“হে আল্লাহ, আমাকে সবরদার বানিয়ে দাও।”
⭐ সবরকারীর জীবনে রহমতের দরজা খোলে
ইতিহাসে অসংখ্য উদাহরণ আছে—
যারা কিছুদিন সবর করেছে, আল্লাহ তাদের জীবনে এমন দরজা খুলে দিয়েছেন যা তারা কল্পনাও করেনি।
-
হারানো রিজিক ফিরে আসে
-
মন ভাঙার পর নতুন সুখ আসে
-
কষ্টের পর সহজি আসে
-
অন্ধকারের পর আলো আসে
আল্লাহর ওয়াদা:
“নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে আছে সহজি।”
(সূরা ইনশিরাহ: ৬)
⭐ বাস্তব শিক্ষা
-
সমস্যা যত বড়ই হোক—সবর ধরে রাখা মুমিনের কাজ
-
দোয়া করুন, নামাজ পড়ুন, তাওয়াক্কুল রাখুন
-
আল্লাহ কখনো তাঁর বান্দাকে হতাশ করেন না
-
সবরের পর আল্লাহ্র সাহায্য অবশ্যই আসে
🕌 Conclusion
সবর এমন একটি চরিত্র যা মুমিনকে শক্তিশালী করে, মনকে শান্ত রাখে এবং জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলো অতিক্রম করতে সাহায্য করে।
যে সবর ধরে রাখে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন, উঁচু মর্যাদা দেন এবং দুনিয়া–আখিরাতে সফলতা দেন।